০১:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে বিজিবির অভিযান: ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার দুষ্প্রাপ্য কষ্টি, বেলে ও শ্বেত পাথর উদ্ধার




মোঃ নজরুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিনিধি:

দেশের মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ বিদেশে পাচারের একটি বড় অপচেষ্টা ভেস্তে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা সিজার মূল্যের বিভিন্ন ধরনের দুষ্প্রাপ্য পাথরের খণ্ডাংশ উদ্ধার করেছে।

সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত গোয়েন্দা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে এই অভিযান দুটি পরিচালিত হয়।

প্রথম অভিযানটি হয় ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ২টা ১৫ মিনিটে। দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের নেতৃত্বে বিজিবি, এসআরবি এবং এলআই বিজিবির একটি যৌথ দল দিনাজপুর জেলার সেতাবগঞ্জ উপজেলার তেনাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৫ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের একটি দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের খণ্ডাংশ উদ্ধার করে।

এরপর একই দিন ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দোহর এলাকায় দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয়। এ সময় ৮৭ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বেলে পাথর, ৩০ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি শ্বেত পাথর এবং ৩৫ কেজি ৬০০ গ্রাম, ১৬ কেজি ৮০০ গ্রাম ও ১৮ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের আরও তিনটি দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়। দুটি অভিযানে মোট ২২৪ কেজি ৪০০ গ্রাম ওজনের পাথরের খণ্ডাংশ জব্দ করা হয়।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর উদ্ধারকৃত বস্তুগুলোকে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে নিশ্চিত করেছেন। ১৯৬৮ সালের পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইন (১৯৭৬ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী এ ধরনের অমূল্য প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণের দায়িত্ব সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

উদ্ধারকৃত কষ্টি, বেলে ও শ্বেত পাথরের খণ্ডাংশের মোট সরকারি সিজার মূল্য ১ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় এসব নিদর্শনের প্রকৃত আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষা এবং প্রত্নসম্পদ পাচার রোধে বিজিবির এমন কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনেও তারা সর্বদা তৎপর রয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বিরল সীমান্তে ৪২ বিজিবির টহল: বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদসহ আটক বা উদ্ধার

দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে বিজিবির অভিযান: ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার দুষ্প্রাপ্য কষ্টি, বেলে ও শ্বেত পাথর উদ্ধার

Update Time : ০৪:০৩:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

মোঃ নজরুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিনিধি:

দেশের মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ বিদেশে পাচারের একটি বড় অপচেষ্টা ভেস্তে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা সিজার মূল্যের বিভিন্ন ধরনের দুষ্প্রাপ্য পাথরের খণ্ডাংশ উদ্ধার করেছে।

সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত গোয়েন্দা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে এই অভিযান দুটি পরিচালিত হয়।

প্রথম অভিযানটি হয় ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ২টা ১৫ মিনিটে। দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের নেতৃত্বে বিজিবি, এসআরবি এবং এলআই বিজিবির একটি যৌথ দল দিনাজপুর জেলার সেতাবগঞ্জ উপজেলার তেনাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৫ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের একটি দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের খণ্ডাংশ উদ্ধার করে।

এরপর একই দিন ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দোহর এলাকায় দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয়। এ সময় ৮৭ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বেলে পাথর, ৩০ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি শ্বেত পাথর এবং ৩৫ কেজি ৬০০ গ্রাম, ১৬ কেজি ৮০০ গ্রাম ও ১৮ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের আরও তিনটি দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়। দুটি অভিযানে মোট ২২৪ কেজি ৪০০ গ্রাম ওজনের পাথরের খণ্ডাংশ জব্দ করা হয়।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর উদ্ধারকৃত বস্তুগুলোকে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে নিশ্চিত করেছেন। ১৯৬৮ সালের পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইন (১৯৭৬ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী এ ধরনের অমূল্য প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণের দায়িত্ব সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

উদ্ধারকৃত কষ্টি, বেলে ও শ্বেত পাথরের খণ্ডাংশের মোট সরকারি সিজার মূল্য ১ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় এসব নিদর্শনের প্রকৃত আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষা এবং প্রত্নসম্পদ পাচার রোধে বিজিবির এমন কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনেও তারা সর্বদা তৎপর রয়েছেন।