
মোঃ মামুনুর রশিদ
ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
ভোর হতে না হতেই গোয়ালঘর থেকে গরুর অনুপস্থিতি, বাজারের দোকানের কাটা টিন কিংবা মধ্যরাতে মসজিদের মাইক চুরির আর্তনাদ—গত দুই মাস ধরে এভাবেই ঘুম ভাঙছে বগুড়ার ধুনটবাসীর। একের পর এক চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় একরকম অবরুদ্ধ সময় পার করছে এই জনপদের মানুষ। থানা পুলিশের প্রশংসনীয় কিছু সাফল্য সত্ত্বেও পুরো চিত্রটি এখনো স্বস্তিদায়ক নয়; বরং এক মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় দুলছে পুরো উপজেলা।
খাতার পাতায় ২১ চুরি, আতঙ্কে জনজীবন
গত দুই মাসে ধুনটের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে গেছে ছোট-বড় অন্তত ২১টি চুরির ঘটনা। সাধারণ বসতবাড়ি থেকে শুরু করে দোকানপাট, কলার খামার, এমনকি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও নিরাপদ নয় এই সংঘবদ্ধ চক্রের হাত থেকে।
সবশেষ গত বুধবার দিবাগত রাতে ধুনট পৌর এলাকার হাসপাতাল রোডে ‘মেসার্স মিলন স্টোর’ নামের একটি মুদির দোকানে ফের হানা দেয় চোরেরা। দোকানের পেছনের টিন ও পার্শ্ববর্তী চায়ের দোকানের পকেট দরজা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে মূল্যবান পণ্যসামগ্রী এবং চুরির আলামত মুছে ফেলতে সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক পর্যন্ত খুলে নিয়ে যায় তারা। এর আগে ৯ আগস্ট গোবিন্দপুর বাজারের ‘ইউসুফ স্টোর’ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার মালপত্র ও নগদ টাকা এবং ১৬ আগস্ট উজ্জ্বল সিং গ্রামে আরও দুই লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়।
চোরদের মূল লক্ষ্য এখন দরিদ্র ও প্রান্তিক খামারিরা। গত ২ আগস্ট গোপালপুর খাদুলী এলাকায় গোলাম মোস্তফার গোয়াল থেকে একটি গাভিন গরু চুরি হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় খামারিদের দুর্দিন। ৩০ আগস্ট মথুরাপুরের কাশিয়াহাটা গ্রামে অস্ত্র প্রদর্শন করে একযোগে চারটি গরু লুটের ঘটনায় আতঙ্ক চরমে পৌঁছে। এর পর থেকে গবাদিপশু রক্ষায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে এলাকার অনেক খামারি। শুধু তাই নয়, গত ১০ আগস্ট ফড়িংহাটা জামে মসজিদের গ্রিল কেটে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম এবং ২১ সেপ্টেম্বর থানার মাত্র ৩০০ গজ দূর থেকে একটি অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
আশার আলো ও পুলিশের সাফল্য
এত শঙ্কার মাঝেও পুলিশের কিছু তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ কিছুটা হলেও স্বস্তি এনেছে। গত বুধবার ধুনট বাজারের ইছামতি মার্কেটের ‘মাসুদ টেলিকম’ থেকে ৯৪টি মোবাইল ফোন চুরির ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় চোরাই মোবাইলও। পুলিশের এই দক্ষতা ও তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল। এলাকাবাসীর ভাষ্য, পুলিশ চাইলে যে অপরাধ দমন সম্ভব, এটি তার বড় প্রমাণ।









