১০:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষকদের নিষ্ঠায় এগিয়ে চলা সিরাজগঞ্জে  আগনুকালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়




​মোঃ মোসলেম উদ্দিন সিরাজী
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

গ্রামের শিশুদের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের আগনুকালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। নানা অভাব-অভিযোগ থাকার পরও বিদ্যালয়টি এখন স্থানীয় শিশুদের পড়াশোনার প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ​বর্তমানে এই স্কুলে মোট ২৩৩ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মুখরিত থাকে স্কুল প্রাঙ্গণ। তবে  শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা অনেক কম, যা বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যেভাবে যত্ন নেওয়া প্রয়োজন, সে অনুযায়ী পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। ​শিক্ষক সংকট থাকলেও পিছিয়ে যাননি আগনুকালী সরকারি প্রার্থমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা। প্রধান শিক্ষক উম্মে কুলসুম মিলির সুন্দর পরিচালনায় শিক্ষকেরা খুব আন্তরিকতার সাথে শিক্ষার্থীদের পাঠদান দিয়ে যাচ্ছেন। প্রধান শিক্ষকের সাথে এক হয়ে কাজ করেছেন তিনজন সহকারী শিক্ষক এবং একজন কর্মচারী। এই অল্প কয়েকজন শিক্ষক মিলেমিশে কাজ করে নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভালো শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তারা নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন এবং যেই সব শিক্ষার্থী পড়ায় পিছিয়ে আছে, তাদের আলাদাভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। ​শিক্ষক কম থাকার পরও শিক্ষকদের এই কঠোর পরিশ্রম ও দায়িত্ববোধ সত্যি প্রশংসনীয়। শুধু বইয়ের পড়াই নয়, শিশুদের ভালো ব্যবহার শেখানো এবং তাদের নিয়মিত স্কুলে আনার ব্যাপারেও শিক্ষকেরা নজর রেখেছেন। ফলে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও শিশুদের পড়াশোনা থেমে নেই, তারা সুন্দরভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ​শিক্ষকদের এই সুন্দর কাজ দেখে এলাকার মানুষ ও অভিভাবকেরা খুব খুশি। স্থানীয়দের মতে, এত কম সুবিধা নিয়েও শিক্ষকেরা যেভাবে পরিশ্রম করেছেন তা সত্যিই দারুণ। তবে সরকার যদি দ্রুত এখানে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়, তবে এই আগনুকালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ভবিষ্যতে আরো অনেক ভালো ফলাফল করতে পারবে। এই বিষয়ে “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন জানিয়েছেন,শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। পদায়ন হলেই এই সমস্যার সমাধান হবে এবং বিদ্যালয়টি সকল প্রকার প্রশাসনিক সহযোগিতা পাবে।” ​উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মুরাদ হোসেন জানিয়েছেন, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, দ্রুত পদায়ন হলে শিক্ষক সংকট দূর হয়ে যাবে। “জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতই পদায়ন করা হবে এবং পদায়ন হলে এই সমস্যার সমাধানসহ বিদ্যালয় প্রশাসনিক সহাযোগীতা পাবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বাগমারায় নানা আয়োজনে উদযাপিত হলো আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস

শিক্ষকদের নিষ্ঠায় এগিয়ে চলা সিরাজগঞ্জে  আগনুকালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

Update Time : ০১:২৬:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​মোঃ মোসলেম উদ্দিন সিরাজী
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

গ্রামের শিশুদের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের আগনুকালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। নানা অভাব-অভিযোগ থাকার পরও বিদ্যালয়টি এখন স্থানীয় শিশুদের পড়াশোনার প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ​বর্তমানে এই স্কুলে মোট ২৩৩ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মুখরিত থাকে স্কুল প্রাঙ্গণ। তবে  শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা অনেক কম, যা বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যেভাবে যত্ন নেওয়া প্রয়োজন, সে অনুযায়ী পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। ​শিক্ষক সংকট থাকলেও পিছিয়ে যাননি আগনুকালী সরকারি প্রার্থমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা। প্রধান শিক্ষক উম্মে কুলসুম মিলির সুন্দর পরিচালনায় শিক্ষকেরা খুব আন্তরিকতার সাথে শিক্ষার্থীদের পাঠদান দিয়ে যাচ্ছেন। প্রধান শিক্ষকের সাথে এক হয়ে কাজ করেছেন তিনজন সহকারী শিক্ষক এবং একজন কর্মচারী। এই অল্প কয়েকজন শিক্ষক মিলেমিশে কাজ করে নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভালো শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তারা নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন এবং যেই সব শিক্ষার্থী পড়ায় পিছিয়ে আছে, তাদের আলাদাভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। ​শিক্ষক কম থাকার পরও শিক্ষকদের এই কঠোর পরিশ্রম ও দায়িত্ববোধ সত্যি প্রশংসনীয়। শুধু বইয়ের পড়াই নয়, শিশুদের ভালো ব্যবহার শেখানো এবং তাদের নিয়মিত স্কুলে আনার ব্যাপারেও শিক্ষকেরা নজর রেখেছেন। ফলে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও শিশুদের পড়াশোনা থেমে নেই, তারা সুন্দরভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ​শিক্ষকদের এই সুন্দর কাজ দেখে এলাকার মানুষ ও অভিভাবকেরা খুব খুশি। স্থানীয়দের মতে, এত কম সুবিধা নিয়েও শিক্ষকেরা যেভাবে পরিশ্রম করেছেন তা সত্যিই দারুণ। তবে সরকার যদি দ্রুত এখানে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়, তবে এই আগনুকালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ভবিষ্যতে আরো অনেক ভালো ফলাফল করতে পারবে। এই বিষয়ে “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন জানিয়েছেন,শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। পদায়ন হলেই এই সমস্যার সমাধান হবে এবং বিদ্যালয়টি সকল প্রকার প্রশাসনিক সহযোগিতা পাবে।” ​উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মুরাদ হোসেন জানিয়েছেন, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, দ্রুত পদায়ন হলে শিক্ষক সংকট দূর হয়ে যাবে। “জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতই পদায়ন করা হবে এবং পদায়ন হলে এই সমস্যার সমাধানসহ বিদ্যালয় প্রশাসনিক সহাযোগীতা পাবে।”