০৮:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৫০ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক ফজলুল হক



মোঃ আরিফুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিনিধি

সারি সারি সবুজ বেগুনগাছ। গাছের ডালে ঝুলছে থোকায় থোকায় বেগুন। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজের চাদরে ঢাকা পুরো মাঠ। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার চরঘাটিনা গ্রামের কৃষক ফজলুল হক ১৫০ শতাংশ জমিতে লুনা হাইব্রিড জাতের বেগুন চাষ করে এমনই দৃশ্য তৈরি করেছেন।

প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে তিনি ব্যবহার করেছেন মালচিং পদ্ধতি। এতে আগাছার প্রকোপ কমার পাশাপাশি মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা এবং গাছের পরিচর্যা সহজ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ পর্যন্ত তাঁর প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় তিন লাখ টাকার বেগুন বিক্রি করেছেন বলে জানান ফজলুল হক। বাজারদর অনুকূলে থাকলে আবাদ শেষে আরও ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।

কৃষক ফজলুল হক বলেন, ১৫০ শতাংশ জমিতে লুনা হাইব্রিড জাতের বেগুন চাষ করেছি। এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ টাকার বেগুন বিক্রি করেছি। বর্তমানে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ মণ বেগুন তুলছি। প্রতি মণ ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করায় ফলন ভালো হচ্ছে এবং জমিতে আগাছার সমস্যাও তুলনামূলক কম। বাজারদর ভালো থাকলে এ আবাদ থেকে কাঙ্ক্ষিত লাভের আশা করছেন তিনি।

ফজলুল হকের জমিতে উৎপাদিত বেগুন স্থানীয় পাইকারেরা সরাসরি ক্ষেত থেকে কিনে নিচ্ছেন। পরে এসব বেগুন উল্লাপাড়াসহ সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। পাইকারদের ভাষ্য, জমি থেকেই ভালো মানের বেগুন পাওয়া যাচ্ছে বলে বাজারে এর চাহিদাও রয়েছে।

একজন পাইকার বলেন, আমরা ফজলুল হকের জমি থেকে বেগুন কিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরবরাহ করি। বেগুনের মান ভালো হওয়ায় বাজারে চাহিদা আছে। বর্তমানে প্রতি কেজি প্রায় ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে কিনছি।’
কৃষকের সঙ্গে কাজ করা শ্রমিকেরাও এই আবাদে উপকৃত হচ্ছেন। স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক জানান, বেগুনের জমিতে নিয়মিত কাজ করে তাঁরা আয় করছেন। তাঁদের উপার্জনের ওপরই অনেকের সংসার চলে।

স্থানীয় এক শ্রমিক বলেন, আমরা এখানে আট থেকে নয়জন নিয়মিত কাজ করি। এখানে কাজ করে যে টাকা পাই, তা দিয়েই আমাদের সংসার চলে।

উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুনার রশিদ বলেন, ফজলুল হক প্রায় সাড়ে চার বিঘা জমিতে লুনা জাতের বেগুন চাষ করেছেন। আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে বৃষ্টির কারণে অনেক সময় শাকসবজির উৎপাদনে সমস্যা দেখা দেয়। এ সময়ে সবজির চাহিদাও থাকে। কৃষি কার্যালয়ের পক্ষ থেকে ফজলুল হককে লুনা জাতের বেগুন চাষে উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেই পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছেন।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে পরিচর্যা ও উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব। তবে কৃষকের লাভ নির্ভর করে উৎপাদন খরচ, ফলন ও বাজারদরের ওপর।
কৃষক ফজলুল হকের প্রত্যাশা, উৎপাদিত বেগুনের বাজারদর যেন মৌসুমজুড়ে ভালো থাকে। এতে এক লাখ টাকা খরচ করে তাঁর কাঙ্ক্ষিত লাভের স্বপ্ন পূরণ হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

দেশ সেরা ২০ জনের তালিকায় উল্লাপাড়ার আনজুম আফরিন

১৫০ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক ফজলুল হক

Update Time : ০৫:২৭:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোঃ আরিফুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিনিধি

সারি সারি সবুজ বেগুনগাছ। গাছের ডালে ঝুলছে থোকায় থোকায় বেগুন। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজের চাদরে ঢাকা পুরো মাঠ। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার চরঘাটিনা গ্রামের কৃষক ফজলুল হক ১৫০ শতাংশ জমিতে লুনা হাইব্রিড জাতের বেগুন চাষ করে এমনই দৃশ্য তৈরি করেছেন।

প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে তিনি ব্যবহার করেছেন মালচিং পদ্ধতি। এতে আগাছার প্রকোপ কমার পাশাপাশি মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা এবং গাছের পরিচর্যা সহজ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ পর্যন্ত তাঁর প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় তিন লাখ টাকার বেগুন বিক্রি করেছেন বলে জানান ফজলুল হক। বাজারদর অনুকূলে থাকলে আবাদ শেষে আরও ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।

কৃষক ফজলুল হক বলেন, ১৫০ শতাংশ জমিতে লুনা হাইব্রিড জাতের বেগুন চাষ করেছি। এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ টাকার বেগুন বিক্রি করেছি। বর্তমানে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ মণ বেগুন তুলছি। প্রতি মণ ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করায় ফলন ভালো হচ্ছে এবং জমিতে আগাছার সমস্যাও তুলনামূলক কম। বাজারদর ভালো থাকলে এ আবাদ থেকে কাঙ্ক্ষিত লাভের আশা করছেন তিনি।

ফজলুল হকের জমিতে উৎপাদিত বেগুন স্থানীয় পাইকারেরা সরাসরি ক্ষেত থেকে কিনে নিচ্ছেন। পরে এসব বেগুন উল্লাপাড়াসহ সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। পাইকারদের ভাষ্য, জমি থেকেই ভালো মানের বেগুন পাওয়া যাচ্ছে বলে বাজারে এর চাহিদাও রয়েছে।

একজন পাইকার বলেন, আমরা ফজলুল হকের জমি থেকে বেগুন কিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরবরাহ করি। বেগুনের মান ভালো হওয়ায় বাজারে চাহিদা আছে। বর্তমানে প্রতি কেজি প্রায় ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে কিনছি।’
কৃষকের সঙ্গে কাজ করা শ্রমিকেরাও এই আবাদে উপকৃত হচ্ছেন। স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক জানান, বেগুনের জমিতে নিয়মিত কাজ করে তাঁরা আয় করছেন। তাঁদের উপার্জনের ওপরই অনেকের সংসার চলে।

স্থানীয় এক শ্রমিক বলেন, আমরা এখানে আট থেকে নয়জন নিয়মিত কাজ করি। এখানে কাজ করে যে টাকা পাই, তা দিয়েই আমাদের সংসার চলে।

উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুনার রশিদ বলেন, ফজলুল হক প্রায় সাড়ে চার বিঘা জমিতে লুনা জাতের বেগুন চাষ করেছেন। আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে বৃষ্টির কারণে অনেক সময় শাকসবজির উৎপাদনে সমস্যা দেখা দেয়। এ সময়ে সবজির চাহিদাও থাকে। কৃষি কার্যালয়ের পক্ষ থেকে ফজলুল হককে লুনা জাতের বেগুন চাষে উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেই পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছেন।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে পরিচর্যা ও উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব। তবে কৃষকের লাভ নির্ভর করে উৎপাদন খরচ, ফলন ও বাজারদরের ওপর।
কৃষক ফজলুল হকের প্রত্যাশা, উৎপাদিত বেগুনের বাজারদর যেন মৌসুমজুড়ে ভালো থাকে। এতে এক লাখ টাকা খরচ করে তাঁর কাঙ্ক্ষিত লাভের স্বপ্ন পূরণ হবে।